শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

নেতানিয়াহুর মাথায় আইসিসির পরোয়ানা

গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইসরাইল আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার না করলেও এবং নেতানিয়াহু ও গ্যালান্ট আত্মসমর্পণ করবেন না বলে জানালেও তাদের চলাচলের সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেছে। আইসিসির প্রতিষ্ঠা চুক্তি রোম সংবিধির আওতায় ১২৪টি দেশ রয়েছে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে এসব দেশ বাধ্য। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী জোনাথন কুটার বলেছেন, আইন তৈরি করা হয় এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, মানুষ তা মেনে চলবে। যারা আইন অমান্য করে, তারা নিজেরাই অপরাধ করছে। কুটার আরও বলেন, ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অনেকেই বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা পরোয়ানা কার্যকরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নেতানিয়াহু অবশ্য এই অভিযোগগুলোকে ‘অ্যান্টি-সেমিটিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ইসরাইলের মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশও এই পরোয়ানা কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন কুটার। রোমা স্ট্যাটিউটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য। আইসিসির এই পরোয়ানা নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমরাতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী জোনাথন কুটারের বক্তব্য জানলাম। কিন্তু এ ব্যাপারে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাবনা কী? বিবিসি জানায়, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইহুদিবিদ্বেষী যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে, তা আধুনিক যুগের ড্রেফাস ট্রায়াল। আর এর সমাপ্তিটাও একই হবে। ‘ড্রেফাস ট্রায়াল’ বলতে নেতানিয়াহু এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের ফ্রান্সের একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তখন ফ্রান্সে সেনাবাহিনীর ইহুদি ক্যাপ্টেন আলফ্রেড ড্রেফাসকে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। নেতানিয়াহু আসলে ‘ড্রেফাস ট্রায়ালকে’ ভুল জায়গায় যুক্ত করেছেন। কোনো স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এমন ভুল করতে পারেন না। কোথায় ‘ড্রেফাস ট্রায়াল’, আর কোথায় ‘গাজার যুদ্ধাপরাধ।’ 

দু’টি বিষয়কে এক করে দেখার রুচি কেমন করে হলো নেতানিয়াহুর। আসলে এই ভদ্রলোকের রুচিবিকৃতি ঘটেছে অনেক আগেই। সুস্থ রুচি কোনো মানুষ কি এমন নৃশংস যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটাতে পারতো গাজায়? এদিকে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে হামাস বলেছে, এটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির কর্মকর্তারা আইসিসর সিদ্বান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কারো কারো আচরণে রকমফেরও লক্ষ্য করা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ